রোহিঙ্গা শিশু ও স্থানীয়দের উন্নয়নে কাজ করবে ইউনিসেফ ও জাপান - Southeast Asia Journal

রোহিঙ্গা শিশু ও স্থানীয়দের উন্নয়নে কাজ করবে ইউনিসেফ ও জাপান

রোহিঙ্গা শিশু ও স্থানীয়দের উন্নয়নে কাজ করবে ইউনিসেফ ও জাপান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভাসানচর ও কক্সবাজারে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশু এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের জীবনমানের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ ও জাপান। এ জন্য ২৭ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে জাপান।

শুক্রবার (১ মার্চ) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ইউনিসেফ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপান সরকারের দেওয়া ২৭ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান নিয়ে ইউনিসেফ নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপ ও কক্সবাজার জেলায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও নারী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।

কক্সবাজার ও ভাসানচরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বহুমুখী মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রকল্পের (দ্য প্রজেক্ট ফর মাল্টিপল হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স ফর ডিসপ্লেসড পারসনস ফ্রম মিয়ানমার ইন কক্স’স বাজার ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড ভাসানচর) মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচর আশ্রয় শিবিরের এক লাখ ৭৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিরা সহায়তা পাবে।

এই প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত ও বহুমুখী মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা (পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা), স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং শিশু ও তাদের পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া উপকারভোগী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিশুরা যেন পরিপূর্ণভাবে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া রোহিঙ্গা শিশুদের উন্নত ভবিষ্যতের কোনও আশা নেই। তা ছাড়া নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশনসেবা না থাকলে শিশুরা নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। এতে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে এবং তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এই ভূমিকা রাখায় আমরা জাপান সরকার ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই অমূল্য সহায়তার কারণে আমরা আমাদের কার্যক্রমগুলো জোরদার করা, জীবন বাঁচানো এবং রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারকে জীবনরক্ষার একটি উপায় করে দিতে সক্ষম হব।’

জাপান সরকারের এই সহায়তায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উভয়ের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।

তিনি বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন যে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় এই শিশুদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। জাপান রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনসহ এই সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশুরা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, সেগুলো লাঘবে জাপানের এই অর্থায়ন ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।