‘টেরিটোরিয়াল আর্মি’ মোতায়েন করল ভারত, ৭৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের

‘টেরিটোরিয়াল আর্মি’ মোতায়েন করল ভারত, ৭৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের

‘টেরিটোরিয়াল আর্মি’ মোতায়েন করল ভারত, ৭৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভারত তার টেরিটোরিয়াল আর্মি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে টেরিটোরিয়াল আর্মির ৩২টি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৪ সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।এই বাহিনী ২০২৮ সাল পর্যন্ত দেশের নানা প্রান্তে কাজ করবে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ‘বর্ধিত প্রস্তুতি ও কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধির’ অংশ হিসেবে টেরিটোরিয়াল আর্মিকে মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। মূলত, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, আর তারই প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভারতের টেরিটোরিয়াল আর্মি (টিএ) হলো একটি খণ্ডকালীন স্বেচ্ছাসেবী রিজার্ভ বাহিনী, যা জাতীয় জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে। এটি ‘সিটিজেন-সোলজার’ বাহিনী নামেও পরিচিত।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর তথ্যমতে, ভারতের সক্রিয় সামরিক সদস্য প্রায় ১৪.৭৫ লাখ এবং আধাসামরিক বাহিনীতে আরও ১৬ লাখ সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা সাত লাখের কম এবং আধাসামরিক বাহিনী প্রায় ২.৯ লাখ।

পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের সামরিক অপারেশনের আওতায় পাকিস্তানে আক্রমণ চালিয়েছে। ভারতের পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা নয়টি জঙ্গি ঘাঁটির ওপর এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান ছিল ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর ভারতের প্রথম কোনও ত্রিস্তরীয় (বিমান, নৌ ও স্থল বাহিনী) সামরিক প্রতিক্রিয়া।

ভারত জানিয়েছে, পহেলগাঁওসহ বিভিন্ন হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

‘টেরিটোরিয়াল আর্মি’ মোতায়েন করল ভারত, ৭৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের

ভারতের ৭৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি

ভারতের মোট ৭৭টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দাবি করা হয়েছে, ৮ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। তারপর আরও ৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনগুলো নজরদারি এবং পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতীয় আগ্রাসনের যথাযথ জবাব দিচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তান গত বুধবার চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান দিয়ে ভারতের দুইটি সামরিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তান চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত দুইটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবে না যেখানে তার কোনো স্বার্থ নেই।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, আমরা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারি না, তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির পথ বেছে নিতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।