খাগড়াছড়ির বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা ও খাস জমি দখলের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ির বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা ও খাস জমি দখলের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ির বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা ও খাস জমি দখলের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা প্রদান এবং সরকারি খাস জমি দখলের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ-এর স্টুডেন্টস ইউনিট-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর ২০২৫) বিকাল ৩টায় রাজধানীর রাজু ভাস্কর্য চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত গিয়ে মানববন্ধনে রূপ নেয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লে. কর্নেল ফরিদুল আকবর (অব.) এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবু মূসা, মোঃ আরিফ বিল্লাহ (ভিজিটিং প্রফেসর, জংজু নরমাল ইউনিভার্সিটি, চীন), মিজানুর রহমান চৌধুরী, লাভ বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান, ড. হেলাল উদ্দিন (ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর ও ঢাকা-০৮ এর মনোনীত প্রার্থী), সাংবাদিক নেতা আবু সালেহ আকন (সভাপতি, ডিআরইউ), এড. তাছমিম রানা (সাবেক সংসদ সদস্য), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রোকনউদ্দোলা (অব.), ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ির বর্মাছড়ি এলাকায় উগ্রপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ সরকারি খাস জমি দখল করে তাদের ঘাঁটি গড়ে তুলেছে এবং ওই এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দিচ্ছে। বক্তারা আরও জানান, এলাকাটি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে অস্ত্রের গুদাম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকার প্রমাণ রয়েছে। সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা গেলে সন্ত্রাসীদের এই নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, সেনা ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ ঠেকাতে ইউপিডিএফ সাধারণ পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও শিশুদের উসকানি দিচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা বলেন, সেনা ক্যাম্প স্থাপিত হলে এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাধারণ জনগণসহ সবাই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে।

অন্যদিকে, মানববন্ধনে বক্তারা ব্রিটিশ আমলের সার্কেল পদ্ধতির অপব্যবহার এবং তার ধারাবাহিকতায় সময়ের সাথে হাজার হাজার একর খাস জমি দখলের অভিযোগও তুলে ধরেন। তারা পার্বত্য অঞ্চলে ঐতিহ্যগত মালিকানা ব্যবস্থার পরিবর্তে আইনানুগ স্বীকৃত ভূমি ব্যবস্থাপনা পুনর্ব্যবস্থার দাবি জানান।

শেষে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা আল ইহযায বর্মাছড়িতে অবিলম্বে সেনা ক্যাম্প স্থাপন এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও খাস জমি উদ্ধার অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে দেশপ্রেমিক জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ অক্টোবর বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তুতিকালে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বাধা সৃষ্টি ও সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।