মানবিক দায়িত্ববোধ: বান্দরবানে ৬ এতিম বম শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনী

মানবিক দায়িত্ববোধ: বান্দরবানে ৬ এতিম বম শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনী

মানবিক দায়িত্ববোধ: বান্দরবানে ৬ এতিম বম শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে সন্ত্রাস ও দুঃখ-দুর্দশার ছাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে শিশুদের জীবনেই। বিশেষ করে যেসব শিশু সন্ত্রাসীদের গুলিতে কিংবা অভিভাবকের অসুস্থতায় একাকী হয়ে পড়ে—তাদের ভবিষ্যৎ প্রায়ই অন্ধকারে ডুবে যায়। ঠিক এমন সংকটময় বাস্তবতায় মানবিক হাত বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ছয় এতিম বম সম্প্রদায়ের শিশুর পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে সেনাবাহিনী।

আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সেনানিবাসে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এসব শিশুদের অভিভাবকদের হাতে এক বছরের শিক্ষা ব্যয় ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর পারভেজ রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোয়াংছড়ির পাইক্ষ্যং পাড়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে ২০২৩ সালে নিহত হন ক্রীস্টিনা বম নামের এক শিশুর বাবা লাললক লিয়ান বম। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

অন্যদিকে, রুমার রনিন পাড়ার এক শিশুর বাবা কয়েক বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান এবং মা পুনরায় বিয়ে করায় শিশুটি একেবারে অবহেলিত ও আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়েছিল। এমন অসংখ্য হৃদয়বিদারক বাস্তবতা পাহাড়ের মানুষের জীবনের অনিবার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব ইবনে রেজওয়ান এক পরিদর্শনকালে এসব শিশুদের খবর পান। তাদের জীবনযাত্রা ও শিক্ষা সংকট দেখেই তিনি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে তাদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার উদ্যোগেই আজ এই বাস্তব সহায়তা বাস্তবায়িত হলো।

মেজর পারভেজ রহমান বলেন, “এই শিশুরা আমাদের দেশেরই সন্তান। তারা যেন সমাজের বোঝা না হয়ে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—সেজন্যই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা এককালীন নয়; ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, শুধু এতিম শিশুরাই নয়, দুর্গম অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জনগণকেও সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করছে।

অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় অসহায় পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়, যা সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও মানবিক সেবাকে একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারের আরেক দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্থানীয় জনগণ মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ পাহাড়ে সহমর্মিতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় করবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।