কলা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলীকদমে সন্ত্রাসী হামলা: যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলায় একটি কলা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা থেকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলেও সেনা জোন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যৌথবাহিনীর টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীকদম উপজেলার জানালী মুরং পাড়ায় গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কলা চুরির অভিযোগে জাফর নামের এক ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটক করে বেঁধে রাখে। অভিযোগ রয়েছে, জাফর ওই এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত হিসেবে পরিচিত এবং অতীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে জাফরের ছেলে ও আত্মীয়স্বজন এসে জোরপূর্বক তাকে ছাড়িয়ে নেয়।
এ ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশায় ম্রো সম্প্রদায়ের কয়েকজন আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের শেষে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাবু পাড়া এলাকায় জাফর, তার ছেলে ও আরও কয়েকজন বাঙালি ব্যক্তি মিলে ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অমর ত্রিপুরা, ডাংইয়া ম্রো, খনং ম্রো, লাংচিং ম্রো ও অংচং ম্রোসহ পাঁচজন আহত হন।

আহতদের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অমর ত্রিপুরা, ডাংইয়া ম্রো ও খনং ম্রোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ সোমবার ভোর থেকে আলীকদম সেনা জোনের বিশেষ টহল দল একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। তবে অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ সময় সেনা জোনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আলীকদম থানায় মামলা রুজু হয়েছে, যার মামলা নম্বর ০৩, তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাঙালি ও ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সব জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সেনা জোন ও প্রশাসনের এমন দ্রুত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয়দের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।