পাহাড়ি তরুণী উত্যক্তের ঘটনায় সামাজিক বিচারে জরিমানা, অপপ্রচার ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম ফকিরনালা এলাকায় দুই তরুণীকে উত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সামাজিক বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অভিযুক্ত এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ইউপিডিএফ কর্তৃক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ফকিরনালা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাড়ার দুই তরুণী ছড়ার কূপ থেকে পানি আনতে গেলে মো. মিজানুর রহমান (৩০) নামের এক যুবক দূর থেকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। ভুক্তভোগীরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আরা মারমা ও হাফছড়ি ইউনিয়নের আমিনুল মেম্বারসহ পাহাড়ি-বাঙালি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নিকটবর্তী বাজারে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অশোভন আচরণ করলেও কোনো ধরনের শারীরিক স্পর্শ বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
এ প্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে অভিযুক্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মানিকছড়ি থানার ওসি মাসুদ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোন পক্ষই অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সামাজিকভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে ঘটনার পরপরই ইউপিডিএফ সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও তাদের সমর্থিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটিকে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু ব্লগসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসা হলেও সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সংঘাত উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় ভিন্ন একটি ঘটনায় একজন মারমা তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বজাতির হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং মামলা করতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সংশ্লিষ্ট মহলের কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া না থাকলেও বর্তমান ঘটনাকে ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অপপ্রচার ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার স্থানীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তাই সঠিক তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে যেকোনো গুজব বা অপপ্রচার দ্রুত প্রতিরোধ করা জরুরি, অন্যথায় তা বড় ধরনের অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।