সাগাইংয়ে বানমাউক পুনর্দখলের দাবি জান্তার, ব্যাপক ধ্বংসের অভিযোগ প্রতিরোধ বাহিনীর

সাগাইংয়ে বানমাউক পুনর্দখলের দাবি জান্তার, ব্যাপক ধ্বংসের অভিযোগ প্রতিরোধ বাহিনীর

সাগাইংয়ে বানমাউক পুনর্দখলের দাবি জান্তার, ব্যাপক ধ্বংসের অভিযোগ প্রতিরোধ বাহিনীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা উত্তরাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলের বানমাউক শহর পুনর্দখল করেছে বলে দাবি করেছে। জান্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)-এর পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং তাদের মিত্র কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ)-এর কাছ থেকে শহরটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর জান্তা ও তাদের মিত্র শান্নি ন্যাশনালিটিজ আর্মি (এসএনএ)-এর বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের অভিযানের পর বানমাউক শহর দখল করে নেয় সরকারবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনী। বানমাউক কাচিন রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইন্ডাও টাউনশিপের সঙ্গে সংযুক্ত, যা এখনো পিডিএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সামরিক জান্তা জানিয়েছে, চার মাসব্যাপী পাল্টা অভিযানের পর রোববার শহরটি পুনর্দখল করা হয় এবং এ সময় বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, জান্তার গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও বিমান হামলায় শহরের প্রায় অর্ধেক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিরোধ বাহিনীর দাবি, গত ডিসেম্বর মাসে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা দুটি ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমায় বানমাউকের প্রধান বাজার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

জান্তার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাল্টা অভিযানের সময় মোট ৬৯টি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের হতাহতের ঘটনা ঘটে। তারা দাবি করেছে, অভিযানে ২৭টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে এবং নিহত প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরোধ বাহিনীর এক যোদ্ধা বানমাউক থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা শহরের শেষ যে ওয়ার্ডটি দখলে রেখেছিল, সেখান থেকেও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে শহরের আশপাশে এখনো ছোটখাটো সংঘর্ষ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

জান্তা-সমর্থিত শান্নি ন্যাশনালিটিজ আর্মিও পৃথক বিবৃতিতে বানমাউক পুনর্দখলের ঘোষণা দিয়েছে।

একজন সামরিক বিশ্লেষকের মতে, বানমাউক হারানো পিডিএফের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা না হলেও এসএনএর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শহরের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একাধিক স্বর্ণখনিই এসএনএর প্রধান আয়ের উৎস। ওই বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বর্ণখনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতেই এসএনএ জান্তার সঙ্গে যৌথভাবে বানমাউক পুনর্দখলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে, কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি ও পিডিএফ বাহিনী গত বছরের এপ্রিল মাসে আট মাসব্যাপী অভিযানের পর পার্শ্ববর্তী ইন্ডাও শহর দখল করে নেয়। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, তারা কাছাকাছি জেলা সদর শহর কাঠা দখলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সামরিক জান্তা ও সরকারবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed