রাখাইনে সংঘাত তীব্র, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে চীনা-সমর্থিত ভিপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র

রাখাইনে সংঘাত তীব্র, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে চীনা-সমর্থিত ভিপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র

রাখাইনে সংঘাত তীব্র, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে চীনা-সমর্থিত ভিপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাখাইন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ চীনা প্রকল্পগুলোর আশপাশে সংঘাত তীব্র হওয়ায় কিয়াউকফিউ টাউনশিপে চীন-সমর্থিত ভিপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত National League for Democracy (এনএলডি) সরকারের আমলে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চীন-সমর্থিত কিয়াউকফিউ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২০২২ সালে চালু হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে জান্তার ব্যর্থতা এবং মার্কিন ডলারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অক্ষমতার কারণে ২০২৩ সালের শেষদিকে এর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

বর্তমানে কিয়াউকফিউতে জান্তা বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন Arakan Army (এএ)-এর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এএ ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

১৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ কেন্দ্রটি হংকংভিত্তিক VPower Group এবং চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএনটিআইসি)-এর যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠে। কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নকারী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত CITIC-ও প্রকল্পে ৮ শতাংশ অংশীদার। কেন্দ্রটি ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নকশা করা হলেও কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি অপসারণ ও স্থানান্তরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কেন্দ্র থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ৩২ নম্বর পুলিশ ব্যাটালিয়নের আশপাশে তীব্র লড়াই চললেও সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা দ্য ইরাবতীকে বলেন, “এক-দুটি যন্ত্রপাতি ছাড়া প্রায় সবকিছুই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিয়াউকফিউ থেকে জাহাজে করে যন্ত্রপাতি নেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই স্থানান্তর শেষ হবে বলে শুনেছি, আর বাকি কাঠামোও খুলে ফেলা হচ্ছে।”

টাউনশিপে চীনা প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী আরেক বাসিন্দা জানান, শুরুতে কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা ছিল না। “এসইজেড এখনো চালু না হওয়ায় কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিত। কিন্তু বিল পরিশোধে জান্তার ডলার ফুরিয়ে যায়। চীনা অপারেটর কার্যক্রম স্থগিত করে, তবে স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংঘাত তীব্র হওয়ায় তারা সব খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়,” বলেন তিনি।

তবে সংঘর্ষ সত্ত্বেও কিয়াউকফিউ টাউনশিপের ওন তাউ গ্রামের কাছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত পাওয়ারচায়না নির্মিত আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে।

কিয়াউকফিউ টাউনশিপ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকেন্দ্র। এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মান্দালয় হয়ে কুনমিং পর্যন্ত রেল সংযোগ রয়েছে—যা বেইজিংকে ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার দিতে China-Myanmar Economic Corridor-এর অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সংঘাত বাড়লেও এসব প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।

কিয়াউকফিউর আশপাশের একাধিক গ্রামে লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে জান্তার প্রধান রাখাইন নৌঘাঁটি দানিয়াওয়াদ্দির কাছাকাছি এলাকাও রয়েছে। টাউনশিপটি ব্যাপক সামরিকীকৃত—এখানে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৪, লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ৫৪২ ও ৫৪৩, ৩২ নম্বর পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং দানিয়াওয়াদ্দিসহ তিনটি নৌঘাঁটি রয়েছে। ফ্রন্টলাইন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এএ বাহিনী এসব অবস্থানের ওপর হামলা জোরদার করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *