‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন’ মামলায় ৭ হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা করল মিয়ানমার জান্তা
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সোমবার “সন্ত্রাসী” গোষ্ঠীকে অর্থায়ন বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডিত ৭ হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছে। জান্তা সরকার বিরোধী প্রো-গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে দীর্ঘদিন ধরেই ‘সন্ত্রাসী’ তকমা ব্যবহার করে আসছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে এক দশকের গণতান্ত্রিক যাত্রার অবসান ঘটে এবং নির্বাচিত নেত্রী দাও অং সান সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়।
সু চির সমর্থনে আন্দোলনকারী প্রো-গণতন্ত্র কর্মী এবং গৃহযুদ্ধে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে জান্তা ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এ ধরনের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং “সন্ত্রাসে অর্থায়ন” এবং “যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া বা যাতায়াতের ব্যবস্থা করা” নিষিদ্ধসংক্রান্ত আইনে দণ্ডিত ৭ হাজার ৩০০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তারা ঠিক কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দণ্ডিত ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জান্তা কিছু রাজনৈতিক অপরাধে দণ্ডিতদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর নামমাত্র বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভাবমূর্তি নরম করার প্রচেষ্টা।
তবে দাও অং সান সু চি এখনো কারাবন্দি, তার দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং সামরিকপন্থী প্রধান দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে—এসব প্রেক্ষাপটে সমালোচকেরা এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে জান্তার শাসনব্যবস্থার নতুন মোড়ক পরানোর প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
সোমবার সকালে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের বাইরে অবস্থান করা এএফপি’র এক সাংবাদিক জানান, সেখান থেকে প্রায় ৩০০ বন্দিকে বাসে করে বের করে নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কুখ্যাত মিয়ানমারের এই কারাগারের সামনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বন্দিদের স্বজনেরা ফুলের তোড়া ও প্রিয়জনের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে কারাগারের কাঁটাতারের সীমানার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুরের কিছু আগে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবারের সরকারি ছুটি উপলক্ষে “সাধারণ জনগণের মানসিক প্রশান্তি এবং মানবিক বিবেচনায়” মিন অং হ্লাইং এই মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
আলাদা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একই ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বিচারাধীন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করা হবে।
মিয়ানমারে সরকারি ছুটির দিনে কারাবন্দিদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সোমবারের ঘোষণাগুলোর মধ্যে আরও ২ হাজার ৮০০ জনের বেশি অন্যান্য বন্দি এবং ১০ জন বিদেশি নাগরিকের মুক্তির কথাও জানানো হয়েছে, তবে তাদের অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বলপ্রয়োগে শাসনের পর সামরিক বাহিনী বলছে, নির্বাচন জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে এবং গৃহযুদ্ধের অবসানের সুযোগ তৈরি করবে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভোটগ্রহণ হয়নি এবং মিন অং হ্লাইং নিজে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।
ঘোষণা অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ পর নতুন পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসবে এবং এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলমান গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বন্দি মুক্তির এ ঘোষণা মিয়ানমারের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেও, সমালোচকেরা এটিকে জান্তার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।