রুমায় কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু, ৬৬ জনকে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগ সেনাবাহিনীর

রুমায় কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু, ৬৬ জনকে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগ সেনাবাহিনীর

রুমায় কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু, ৬৬ জনকে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগ সেনাবাহিনীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বান্দরবানে মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। প্রথম ধাপে ৬৬ জনকে নিয়ে শুরু হয়েছে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যা পাহাড়ি জনপদের স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

আজ মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর হলরুমে দুই সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলার দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সেবা প্রদানই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মাহফুজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন ডা. সোহাগ মিয়া সজিব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর নার্স সুপারভাইজার এলিপ্রু মারমা, সিনিয়র নার্স লাল লিনপার বম এবং পাইন্দু ইউনিয়নের ইউপি সদস্য লালবেন বমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইউপি সদস্য লালবেন বম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে সাধারণ রোগও জটিল হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ পাহাড়ি মানুষের জন্য নতুন আশার আলো।

অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের নির্বাহী পরিচালক উঃ নাইন্দিয়া থের বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখন পাড়া-মহল্লায় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মেজর মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, দুই সপ্তাহব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃসেবা, শিশুস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

রুমা জোনের জোন অধিনায়ক মোঃ মেহেদী সরকার জানান, দুর্গম পথ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দরিদ্র ও অসহায় পরিবার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বাস্তবতা অনুধাবন করেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed