সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা আফজাল নাছের গ্রেপ্তার, ৬ দিনের রিমান্ড
![]()
নিউজ ডেস্ক
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক, সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস- এর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিবির একটি সূত্র জানা যায়, এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় আফজাল নাছেরকে।
আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইতে দায়িত্ব পালন করেন। এক এগারোর সময়ে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নির্যাতনে বার বার নাম আসে এই আফজালের। তার বিরুদ্ধে ভাটারায় জুলাইয়ে একটি হত্যা মামলা আছে।
এর আগে, গত সোমবার রাতে ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। পরে পল্টন থানার মামলায় মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। ওই রিমান্ড শেষে নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরপর গত বুধবার ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিবি হেফাজতে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় গ্রেফতার বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) ছয়দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে রাখে। ওই সময় নাছের একটি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। নিজের ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেননি তিনি। অনেকভাবে এই আসামি ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন আসামির রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৪০) বেলা ৩টা ২০ মিনিটে ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষে মিরপুরর ১০ নম্বরের ফলপট্টিতে অবস্থান নেন। ওই সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা মো. আফজাল নাছেরের নির্দেশে নির্বিচারে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করেন।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, সন্দিগ্ধ আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি নাছেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।