এশিয়ান হাইওয়ে খুললেও আমদানি বন্ধ, বিকল্প পাহাড়ি পথ আটকে দিল মিয়ানমার জান্তা

এশিয়ান হাইওয়ে খুললেও আমদানি বন্ধ, বিকল্প পাহাড়ি পথ আটকে দিল মিয়ানমার জান্তা

এশিয়ান হাইওয়ে খুললেও আমদানি বন্ধ, বিকল্প পাহাড়ি পথ আটকে দিল মিয়ানমার জান্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দুই বছর বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সামরিক সরকার মায়াওয়াডি-কাওকারেইক অংশের এশিয়ান হাইওয়ে পুনরায় চালু করেছে, যদিও থাইল্যান্ডের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য রুটে আমদানি কার্যক্রম এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে জান্তা বাহিনী কারেন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি বিকল্প পথগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। মায়াওয়াডি টাউনশিপের দাওনা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নাদি লিন মিয়াইং গ্রামে এসব পথ আটকে দেওয়া হয়।

কারেন রাজ্যের রাজধানী হ্পা-আন থেকে সীমান্তবর্তী শহর মায়াওয়াডি পর্যন্ত ১৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি মিয়ানমারের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থল বাণিজ্য পথ। জান্তা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত এই পথ দিয়ে বছরে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্য হতো।

কাওকারেইক ও মায়াওয়াডির মধ্যবর্তী ৩১ কিলোমিটার অংশটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কারেন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের মিত্র প্রতিরোধ বাহিনী বন্ধ করে দেয়, যখন সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এলাকা প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জান্তা বাহিনী ও তাদের মিত্র মিলিশিয়ারা পুনরায় দখল করে।

দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকার সময়ও থাইল্যান্ডের পণ্য কারেন গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রিত দাওনা পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে মিয়ানমারে প্রবেশ করত। সামরিক বাহিনী যখন কারেন গোষ্ঠীগুলোর কর আয়ের উৎস বন্ধ করতে থাই পণ্যকে “অবৈধ” হিসেবে জব্দ করা শুরু করে, তখন ব্যবসায়ীরা এই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে শুরু করে, ফলে বাজারে সংকট দেখা দেয়।

মায়াওয়াডির এক চালক জানান, বৃহস্পতিবার জান্তা বাহিনী কারেন গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি পথে যাওয়ার নাদি লিন মিয়াইং সড়কটি বন্ধ করে দেয়। তিনি The Irrawaddy-কে বলেন, “সকালে কিছু গাড়ি যেতে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দুপুরের পর লাইসেন্সধারী বা লাইসেন্সবিহীন কোনো যানবাহনকেই আর যেতে দেওয়া হয়নি।”

এই বন্ধ হওয়া পথগুলোতে চারটি জান্তা-সমর্থিত মিলিশিয়া—কারেন বর্ডার গার্ড ফোর্স, কারেন ন্যাশনাল আর্মি, KNU/KNLA পিস কাউন্সিল এবং ডেমোক্রেটিক কারেন বেনেভোলেন্ট আর্মি—মিলে প্রায় এক ডজন বাণিজ্য গেট পরিচালনা করে। এছাড়া কিছু চেকপয়েন্ট কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের সশস্ত্র শাখা এবং ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (PDF)-এর সঙ্গে মিলে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

এসব গেট থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ কিয়াত আয় হয় বলে জানা গেছে, ফলে হঠাৎ করে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় সামরিক বাহিনী ও কারেন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত উত্তর কাওকারেইক ও পুরনো পাহাড়ি সড়কের আশপাশে সংঘর্ষ চলছিল। প্রতিরোধ বাহিনী এখনো সেখানে অবস্থান করছে এবং যেকোনো সময় আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।

কাওকারেইকের এক বাসিন্দা বলেন, “সংঘর্ষ থেমেছে শুধু এই কারণে যে সেনাবাহিনী অগ্রসর হওয়া বন্ধ করেছে। প্রতিরোধ বাহিনী সরে যায়নি। যেকোনো সময় আবার মহাসড়কের পাশে সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।”

কাওকারেইকের স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে তারা তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

সড়ক পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য যাতায়াত সময় ও খরচ কিছুটা কমতে পারে, তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে পণ্য পরিবহন সহজ হয়নি। জান্তা এখনো আনুষ্ঠানিক আমদানি বন্ধ রাখায় থাই পণ্যগুলোকে বাধ্য হয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি পথেই যেতে হচ্ছে।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা এখনো বৈধভাবে আমদানি করতে পারছি না। আগের মতোই চোরাচালানই একমাত্র উপায়। তারা মহাসড়ক খুলেছে, কিন্তু অন্য পথ বন্ধ করে এবং কড়াকড়ি বাড়িয়ে বাণিজ্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে।”

সীমান্ত বাণিজ্যে জান্তার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, থাই পণ্য এখনো মায়াওয়াডি দিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সামরিক বাহিনী ও পথ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বড় অঙ্কের ঘুষ—অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মিলিয়ন কিয়াত—দিতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা সরকারকে বৈধ আমদানি ব্যবস্থা পুনরায় চালু এবং সরকারি শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed