রাঙামাটিতে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড চালু: কমেছে ভোগান্তি, নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি সরবরাহ
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও ফুয়েল কার্ড চালুর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে এসেছে একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে শহরের চারটি পাম্পে একযোগে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়, যা বেলা ১১টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অন্যান্য দিনের মতো দীর্ঘ লাইন না থাকলেও ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে গ্রাহকদের জ্বালানি নিতে দেখা যায়।

নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকদের আগে থেকে নিবন্ধন করে কিউআর কোডের মাধ্যমে টোকেন নম্বর সার্ভারে প্রদান করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকের পূর্বের জ্বালানি গ্রহণের তথ্যসহ যাবতীয় তথ্য যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে কেউ একাধিকবার জ্বালানি নিতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
তবে প্রথম দিনেই কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন গ্রাহক অন্য পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ার পর পুনরায় অন্য পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সার্ভারে তথ্য যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়লে তারা দ্রুত সরে যান।

জ্বালানি নিতে আসা মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, আগে প্রতিটি পাম্পের সামনে দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষা ছিল নিয়মিত ঘটনা। এখন তা কমে এসেছে এবং সহজেই জ্বালানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা তুলে দিলে কর্মঘণ্টা নষ্ট কমবে বলেও মত দেন তিনি।
অন্য গ্রাহক রাহুল চাকমা বলেন, তেলের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। যেহেতু কিউআর কোডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়েছে, তাই সময়সীমা শিথিল করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ট্যাগ অফিসার ও অতিরিক্ত উপপরিচালক অরুন চন্দ্র রায় জানান, ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। শহরে প্রায় দুই হাজার গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন। তিনি বলেন, কেউ একাধিক পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করলে সার্ভারের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রথম দিনে কয়েকজনকে সতর্ক করা হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আগে বেলা ১১টার পর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও এখন সেই চাপ নেই। কারণ, একজন গ্রাহক একবার জ্বালানি নেওয়ার পর অন্য পাম্পে গেলে তার তথ্য সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত হয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ চালু হওয়ায় রাঙামাটিতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।