খাগড়াছড়িতে ‘কালো সোনা’ গোলমরিচ চাষে নতুন সম্ভাবনা, বদলে যেতে পারে পাহাড়ের অর্থনীতি
খাগড়াছড়িতে বাগানের আম, মালটা, লিচুসহ বিভিন্ন গাছকে কাজে লাগিয়ে সাথি ফসল হিসেবে গোলমরিচ চাষের পরিকল্পনা করেন বিশেষজ্ঞরা।
![]()
নিউজ ডেস্ক
অনুকূল আবহাওয়া, কম খরচ এবং অধিক লাভের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে গোলমরিচ চাষ নতুন আশার দুয়ার খুলছে। খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য তিন জেলায় ফলের বাগানের গাছগুলোকে ব্যবহার করে সাথি ফসল হিসেবে গোলমরিচ চাষের মাধ্যমে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পাহাড়ের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, একসময় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল সনাতন পদ্ধতির জুমচাষ। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন এসব এলাকায় আম, মাল্টা, লিচুসহ নানা দেশি-বিদেশি ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগানের প্রতিটি গাছকে কাজে লাগিয়ে লতানো ফসল হিসেবে গোলমরিচ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে গোলমরিচের চাহিদার বড় একটি অংশ এখনও আমদানি নির্ভর। প্রতি বছর শত কোটি টাকার গোলমরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদী জমি ও উপযুক্ত আবহাওয়া এই ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক জানান, গোলমরিচ চাষের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। এটি লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছে ভর করে বেড়ে ওঠে। এতে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম লাগে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক চাষে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষক লাপ্রু চাই মারমা ও রূপেন চাকমা জানান, তারা পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১০ একর জমির বিভিন্ন ফলের বাগানে গোলমরিচ চাষ করেছেন। এতে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয়নি এবং দুই বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া গেছে। বর্তমানে ভালো ফলন পেয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং এই চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, পরীক্ষামূলক সফলতার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে কৃষক পর্যায়ে গোলমরিচ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, চারা বিতরণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এই ফসল জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই গোলমরিচ পার্বত্য অঞ্চলের একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে গোলমরিচ চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।