ঐতিহ্যের স্বাদে মুখর পাহাড়ি জনপদ: রাঙামাটির ঘরে ঘরে চলছে বিজুর প্রাণ ‘পাজন’ তৈরি ও আপ্যায়ন
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বিজু’ উদযাপনে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুল বিজু, মূল বিজু ও গজ্যাপজ্যা—এই তিন ধাপে পালিত হয় এ ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যার অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’।
চৈত্রের শেষ দিনে পালিত মূল বিজুর প্রধান উপাদান এই পাজন। ভোরের সূর্যের আলো ফুটতেই পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয় পাজন রান্নার প্রস্তুতি। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সবজি কাটাকাটি করে পরিস্কার পানিতে ধুয়ে রান্না শুরু করেন। রান্না শেষে ঘরে ঘরে চলে পাজন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন।

ঐতিহ্যবাহী এই পাজন রান্না করা হয় অন্তত ৩২ ধরনের সবজি দিয়ে। কোনো কোনো পরিবারে প্রায় একশো প্রকার সবজি ব্যবহার করা হয়। এতে কাঠাল, কলা, মূলা, মিষ্টি কুমড়া, বেতডগা, তারা, বিভিন্ন শাকসবজি ও শুঁটকি মাছসহ নানা উপাদান থাকে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, বছরের শেষ বা প্রথম দিনে এই পাজন খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই এ দিনে পাহাড়ি ও বাঙালি—সবাই বাড়ি বাড়ি ঘুরে পাজন খাওয়ার রেওয়াজ পালন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবর্তন চাকমা জানান, “১২ এপ্রিল ফুল ভাসিয়ে আমরা পুরোনো বছরকে বিদায় জানাই। ১৩ এপ্রিল সকালে গোসল শেষে বড়দের প্রণাম করি। এরপর বাড়িতে বিভিন্ন রান্না হয়, যার মধ্যে পাজন অন্যতম। কমপক্ষে ৩২ ধরনের সবজি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়।”
সুপ্তা চাকমা বলেন, খুব ভোরে উঠে পাজনের জন্য সবজি কাটা হয় এবং পরিস্কার করে রান্না করা হয়। তন্নী চাকমা জানান, পাজনের পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

বিনিতা চাকমা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সাত বাড়ি ঘুরে বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি পাজন খেলে শরীর ভালো থাকে। তাই এটি আমাদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।”
এদিকে শিক্ষক রিংকু দে বলেন, এ দিনে তারা পাহাড়ি বন্ধু ও সহকর্মীদের বাড়িতে বেড়াতে যান এবং পাজন খাওয়া উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শিক্ষক আয়েশা আক্তারও জানান, পার্বত্য এলাকায় এদিন সবাই একে অপরের বাড়িতে ঘুরে বেড়ান এবং পাজন না খেলে যেন উৎসবই পূর্ণতা পায় না।
উৎসবের তৃতীয় দিন ১৪ এপ্রিল চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় গোজ্জাই পূজা পালন করবে। একই দিনে মারমা সম্প্রদায় উদযাপন করবে ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা উৎসব।

আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটি স্টেডিয়ামে মারমাদের সাংগ্রাই পানি খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসব।
উল্লেখ্য, বিজু উৎসব শুধু একটি খাদ্যসংস্কৃতির অংশ নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।