খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের হারি বৈসু উদযাপন, চেঙ্গী নদীতে ফুল-প্রদীপ ভাসিয়ে প্রার্থনা
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘হারি বৈসু’ উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাদের বর্ষবরণ উৎসব। চৈত্র সংক্রান্তির শেষ দিনে পালন করা এই আচারকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী নদী তীরে হারি বৈসুর প্রধান আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ দলে দলে নদীর তীরে জড়ো হন। তারা নদীর মাঝখানে বালির স্তুপ তৈরি করে কলাপাতায় ফুল ও প্রদীপ সাজিয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা নিবেদন করেন।
রীতি অনুযায়ী, ত্রিপুরা নারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনাই-রিছা’ ভাসিয়ে দেন নদীর জলে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, হারি বৈসুর দিনে এভাবে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা করলে নতুন বছর সুখ, সমৃদ্ধি ও জ্ঞান-গরিমায় ভরপুর হয়।
ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এই হারি বৈসু উৎসবের মধ্য দিয়েই তাদের বর্ষবরণ আয়োজনের সূচনা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্ণিল এই উৎসব উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

এ বছর বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ-এর উদ্যোগে চেঙ্গী নদীর পল্টন জয়পাড়া ঘাটে মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার ও ত্রিপুরা সংসদের সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নদী ছাড়াও হারি বৈসু উপলক্ষে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাতাই পুকুরি, যা ‘দেবতা পুকুর’ নামে পরিচিত, সেখানে পূণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে তীর্থমেলা বসেছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবগুলো দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতি বছর উদযাপিত হয়ে আসছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।