ভোট সামনে রেখে সিএএ বাস্তবায়নের ঘোষণা, বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তার আশ্বাস আসাম মুখ্যমন্ত্রীর

ভোট সামনে রেখে সিএএ বাস্তবায়নের ঘোষণা, বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তার আশ্বাস আসাম মুখ্যমন্ত্রীর

ভোট সামনে রেখে সিএএ বাস্তবায়নের ঘোষণা, বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তার আশ্বাস আসাম মুখ্যমন্ত্রীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা জোরদার হওয়ার মধ্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ক্ষমতায় এলে Citizenship Amendment Act (সিএএ) ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকারের অধীনে কোনো বাংলাদেশি হিন্দু ভয়ের মধ্যে নেই। “ভারতে যদি হিন্দুরা নিরাপদ না থাকে, তাহলে তারা কোথায় থাকবে?”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি মুসলিমরা ভয়ের কারণে ভোট দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-এর ‘ডিম-ভাত’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করে সারমা বলেন, “আমার সঙ্গে বসে খান, আমি তাদের চেয়ে এক কেজি বেশি খাব।” এছাড়া তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জি-কে লক্ষ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি দুবাই চলে যাবেন—এমন দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বিজেপির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসও ব্যক্ত করেন।

এদিন তিনি কলকাতার বেহালা পূর্ব আসনে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর সিকদারের সমর্থনে একটি রোডশো করেন। এই আসনটি গত তিন দফা ধরে All India Trinamool Congress (টিএমসি)-এর দখলে রয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে টিএমসির রত্না চ্যাটার্জি বিজেপির পায়েল সরকারকে ৩৭ হাজার ৪২৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আসামে কোনো বাঙালি হিন্দুকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়নি। “একজন বাঙালি হিন্দুও যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকে, আমি আজই পদত্যাগ করব,”—এমন ঘোষণা দেন তিনি।

অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় ১৯৪৮ সালের Illegal Immigrant Expulsion Act, 1948 প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই আইন অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োগ করা উচিত এবং সিএএ’র আওতায় হিন্দুরা সুরক্ষিত।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য অঞ্চলের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শুধু রাজ্যের নয়, পুরো ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ,”—বলেন তিনি। তার মতে, জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হলে ধর্মভিত্তিক আইনের দাবি উঠতে পারে এবং “জনসংখ্যার ভারসাম্য থাকলেই ধর্মনিরপেক্ষতা টিকে থাকবে।”

এদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুকে প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে এবং টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশে সহযোগিতার অভিযোগ করছে। দলের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও রয়েছেন, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৯২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোট গণনা ৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব প্রশ্নে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed