কালবৈশাখীর তাণ্ডবে খাগড়াছড়িতে ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত, চরম বিপাকে কৃষক
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক কৃষি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বুধবার সকালে দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার ফলে নিচু জমিগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে মাঠে থাকা পাকা ধান বাতাসের তাণ্ডবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি ঘরে তোলার জন্য কেটে রাখা ধানও পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে মহালছড়ি ও পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। নিচু জমিতে চাষ করা ধান ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি পানিতে ডুবে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মকবুল হোসেন জানান, “সারা বছর কষ্ট করে যে ফসল ফলাই, এবার তা ঘরে তুলতে পারলাম না। কালবৈশাখীর এক ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে ২২১ হেক্টর ধান, ৬৩ হেক্টর সবজি এবং ৫৪৮ হেক্টর ফলবাগান। এতে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি খাত বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।