রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে জলাতঙ্ক (রেবিস) টিকার তীব্র সংকটের কারণে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্তরা হাসপাতালে এলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন তারা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যাকসিন নেওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক রোগী খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে পালিত কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে জলাতঙ্ক টিকার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে আক্রান্তদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হলেও গত তিন মাস ধরে এই সেবা কার্যত বন্ধ। ফলে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে টিকা কিনে এনে হাসপাতালে প্রয়োগ করাচ্ছেন।

ভ্যাকসিন নিতে আসা শোভা রানী চাকমা বলেন, “বাসার বিড়ালের নখে আঁচড় লেগেছে। হাসপাতালে এসে জানলাম ভ্যাকসিন নেই। বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা দিয়ে দেবে বলে জানিয়েছে।”

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

আরেক রোগী মো. রবিউল আলম জানান, “এটি আমার দ্বিতীয় ডোজ। আগেরবারও ৪ জন মিলে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে নিয়েছি। আজও একই অবস্থায় অপেক্ষা করছি।”

তাসলিমা বেগম বলেন, “আগে সরকারি ভাবে টিকা দেওয়া হতো। এখন কিনে নিতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা দিয়ে কিনতে হলে কোথায় যাবো?”

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিখিল প্রিয় চাকমা জানান, “গত ডিসেম্বর থেকে ঢাকা থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু অ্যান্টি-র‌্যাবিক ভ্যাকসিন কেনা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।”

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি জেলার সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন জেলা ও জেলার বাইরের মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন, যা মাসে প্রায় এক হাজারে দাঁড়ায়। অথচ প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় এসব রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হওয়ায় সময়মতো টিকা না পেলে আক্রান্তদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে, ফলে দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed