দুর্গম পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অরুন চাকমা ও জ্যোতিময় চাকমার পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

দুর্গম পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অরুন চাকমা ও জ্যোতিময় চাকমার পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

দুর্গম পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অরুন চাকমা ও জ্যোতিময় চাকমার পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন।

জানা যায়, গতকাল শনিবার (২৩ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার বাইন্যাছোলা এলাকার বাসিন্দা অরুন চাকমা ও জ্যোতিময় চাকমার যৌথ মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকানের সকল মালামাল, আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক সরঞ্জাম সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই লক্ষীছড়ি জোন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়। পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সেনা জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ঢেউটিনসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এছাড়াও আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে ময়ূরখীল গ্রামের বাসিন্দা দুলালের বসতঘর ভেঙে পড়ায় তাকেও পুনর্বাসনের জন্য সহায়তা দিয়েছে লক্ষীছড়ি জোন। সেনাবাহিনীর এই সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্গম পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অরুন চাকমা ও জ্যোতিময় চাকমার পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটময় পরিস্থিতিতে সবার আগে সেনাবাহিনীই এগিয়ে আসে। অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় অনেক সময় সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না হলেও সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় জনগণের দুঃসময়ে সেনাবাহিনীর এমন সহমর্মী ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed