মহালছড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক

মহালছড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক

মহালছড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়িতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, গুলি, চাঁদা আদায়ের রশিদ বই এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের তিন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত এসব ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আজ সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের দায়িত্বপূর্ণ পংঙ্খিমুড়া এলাকার মনো মহাজন পাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, আটক সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি চায়না পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতগুলো তাদের কথিত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জাবির আল আসিফ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের কিছু সশস্ত্র সদস্য মহালছড়ি এলাকার ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। অবশেষে গত রাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি এবং অন্যান্য আলামত তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে।”

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা চাঁদার চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযুক্তদের আটকের ঘটনায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, মহালছড়ি এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা আশা করছেন, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জনজীবন আরও সুসংহত হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *