দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের প্রতিবাদে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভে বিএনপি নেতাকর্মীরা

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের প্রতিবাদে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভে বিএনপি নেতাকর্মীরা

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের প্রতিবাদে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভে বিএনপি নেতাকর্মীরা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্রের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা “ষড়যন্ত্র হয়নি শেষ, সজাগ থাকো বাংলাদেশ”, “জোর করে পদত্যাগ মানি না, মানবো না”সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে দলের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নিয়ে সড়ক ছেড়ে যান তারা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন—এমন ব্যাখ্যা তারা বিশ্বাস করেন না। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন এবং জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব লাভ করেছেন। ফলে হঠাৎ পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের প্রতিবাদে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভে বিএনপি নেতাকর্মীরা

তারা আরও অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণেও তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। একইসঙ্গে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নের স্বার্থে দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় মন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির বলেন, “যে অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে, সেটি কেবল একটি অজুহাত বলে আমরা মনে করি। মন্ত্রণালয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা না পাওয়ার কারণেও তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।”

জেলা বিএনপির আরেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, “বিএনপির ৩১ দফা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীপেন দেওয়ান পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার মতো একজন মানুষ শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করবেন—এটি আমরা বিশ্বাস করি না। নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।”

রাজনৈতিক জীবনে দীপেন দেওয়ানের দীর্ঘ পথচলার কথাও তুলে ধরেন নেতারা। তারা জানান, ২০০৬ সালে যুগ্ম জেলা জজের পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *