প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন: মীর হেলালের অপসারণ ও দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবি
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং সদ্যসাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটি আসনের কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাঙামাটি শহরের মারী স্টেডিয়াম এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ নম্বর রাঙামাটি আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল বাশার (বাদশা)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী পহেল চাকমা, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সমর্থন পেয়েছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আবুল বাশার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর কোনো পদ থাকার বিধান নেই। ফলে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন-কে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার ও অপসারণের দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য অঞ্চলের বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি যেন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ না পান, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোরভাবে চুক্তির বিধান অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পহেল চাকমা বলেন, “নির্বাচনে আমরা সবাই দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। কিন্তু আমরা রাঙামাটির মানুষ হিসেবে মনে করি, তিনি মন্ত্রী হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “দীপেন দেওয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রার্থী এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে সবাই উপস্থিত থাকতে না পারলেও তারা এ দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্বত্য জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।