সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগে রক্ষা পেল পাহাড়ি শিশুর চোখ, লাল খম লিয়ান বমের পরিবারে স্বস্তি

সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগে রক্ষা পেল পাহাড়ি শিশুর চোখ, লাল খম লিয়ান বমের পরিবারে স্বস্তি

সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগে রক্ষা পেল পাহাড়ি শিশুর চোখ, লাল খম লিয়ান বমের পরিবারে স্বস্তি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার এক পাহাড়ি শিশুর চোখের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে যে শিশুটি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে ছিল, সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তায় তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম রৌনিনপাড়া এলাকার বাসিন্দা লাল খম লিয়ান বমের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে দীর্ঘদিন ধরে জটিল চোখের সমস্যায় ভুগছিল। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা গ্রহণ না করলে শিশুটির চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি লাল খম লিয়ান বম। সীমিত আয়ের কারণে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি সন্তানের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছিল না। পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে গত ৩ জুন তিনি সহায়তার আশায় রৌনিনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের দ্বারস্থ হন।

বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রৌনিনপাড়া আর্মি ক্যাম্প দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ ও সমন্বয় করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সেনাবাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের ফলে শিশুটির চোখে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দূর হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় আবেগাপ্লুত লাল খম লিয়ান বম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। সেনাবাহিনীর সহায়তা না পেলে হয়তো আমার সন্তানের চোখ রক্ষা করা সম্ভব হতো না। তাদের এই সহযোগিতা আমাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা এখনো অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিশেষ করে দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসংখ্য উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের প্রশংসা অর্জন করেছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, রৌনিনপাড়ার এই শিশুর চিকিৎসায় সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী সহায়তা শুধু একটি শিশুর দৃষ্টিশক্তিই রক্ষা করেনি, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে বসবাসকারী মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেই প্রত্যাশা সবার।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed