টেকনাফে টানা বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং

টেকনাফে টানা বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং

টেকনাফে টানা বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা দুই-তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে হাজারো ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও চিংড়িঘের।

রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা সাঁতরে নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মাছ ও জালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার অন্তত ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মানুষের বসতি রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সকাল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। টেকনাফে প্রায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ১১টি টিলায় বসতি গড়ে উঠেছে। বন বিভাগের প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টর বনভূমির বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারাও রয়েছেন।

পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর আলম বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি। সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু যাওয়ার মতো আমাদের কোনো বিকল্প জায়গা নেই।”

সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, “ভারী বৃষ্টিতে পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খাল দখলের কারণেই এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।”

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, “মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। তবে মাঝিমাল্লারা নিরাপদে তীরে ফিরতে পেরেছেন। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিতে সমুদ্রঘেঁষা কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, “টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।”

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, “ভারী বর্ষণে এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করছি। কারণ টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ভয় আছে। এছাড়া পানিবন্দি লোকজনের খোঁজখবরও রাখছেন।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *