৫ মাসে ৩ জন নিহত, আহত কয়েকজন: অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি

৫ মাসে ৩ জন নিহত, আহত কয়েকজন: অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি

৫ মাসে ৩ জন নিহত, আহত কয়েকজন: অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান থাকলেও পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা থামছেই না। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সংঘর্ষ, সশস্ত্র তৎপরতা ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফলে জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

চলতি মাসের ঘটনাগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবার মাটিরাঙ্গা উপজেলার সিলকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত)-এর তিন সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি এলজি এবং একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা জোনের একটি টহল দল সিলকপাড়ার কর্ণ ত্রিপুরার বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায়। অভিযানে হ্লাপ্রুসাই মারমা (৩০), তেজেন্দ্র চাকমা (২৭) ও বিশ্ব ত্রিপুরা (২৮) নামে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রসহ মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মাসুদ খান বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এর আগে, বুধবার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে গোলাগুলিতে সুজন চাকমা নামে একজন নিহত হন। একই দিন রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনায় ইউপিডিএফ সদস্য ববিন ত্রিপুরা নিহত হন এবং একে-৪৭ রাইফেলসহ আরেক সদস্যকে আটক করা হয়।

এদিকে, আজ শুক্রবার সকালে গুইমারা উপজেলার পাইনংপাড়া এলাকায় জেএসএসস ও ইউপিডিএফ-এর মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ইউপিডিএফ গুইমারা ইউনিটের সংগঠক ঝিমিত চাকমা গুলিবিদ্ধ হন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দল তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে সক্রিয় বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় কৃষকরা নিরাপদে জমিতে যেতে পারেন না, ব্যবসায়ীরা চাঁদার ভয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না এবং পরিবহন চলাচলেও মাঝে-মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পর্যটন, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সহিংসতা পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারী বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধরনের অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed