সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে সশস্ত্র চোরাকারবারীদের গোলাগুলি, বিদেশি পিস্তল-গোলাবারুদ উদ্ধার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার ভারত সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সঙ্গে সশস্ত্র চোরাকারবারীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট ধরে চলা এ গোলাগুলির পর চোরাকারবারীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ভারতীয় মুদ্রা এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে বিজিবির যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার (২৭ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা উপজেলার ২ নং তবলছড়ি ইউনিয়নের দেওয়ানবাড়ি বিওপির অধীন সিংহপাড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের (২৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালিদ ইবনে হোসেনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অংশ নেয়।
অভিযানের একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজন সশস্ত্র চোরাকারবারীর গতিবিধি লক্ষ্য করেন। টহল দল তাদের ধাওয়া করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি—যার মধ্যে তিনটি খালি খোসা, তিন রাউন্ড কার্তুজ, এক হাজার ৬০০ ভারতীয় রুপি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও আলামত নিয়ে টহল দল ক্যাম্পে ফেরার সময় সশস্ত্র চোরাকারবারীরা সেগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট থেমে থেমে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে চোরাকারবারীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোলাগুলির সময় তারা মোট ১৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে এ ঘটনায় বিজিবির কোনো সদস্য বা অন্য কেউ হতাহত হননি।

ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।