খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট’ শুরু, ১২ দলের অংশগ্রহণ

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট’ শুরু, ১২ দলের অংশগ্রহণ

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট’ শুরু, ১২ দলের অংশগ্রহণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খেলাধুলার মাধ্যমে পাহাড়ের তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, নতুন ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। জেলার বিভিন্ন ফুটবল একাডেমি ও ক্লাবের ১২টি দল নিয়ে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট ঘিরে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

বিকেল ৩টায় খাগড়াছড়ি জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান।

এ সময় খাগড়াছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আশরাফুল কবির, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে পার্বত্য ফুটবল একাডেমি ও খাগড়াছড়ি স্পোর্টস একাডেমি। ম্যাচকে ঘিরে মাঠে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলা, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা এবং সম্ভাবনাময় ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করাই টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সৃজনশীল পরিবেশে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাঠের খেলায় তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা প্রদর্শনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকে যান। বিভিন্ন একাডেমি ও ক্লাবের খেলোয়াড়দের এক মঞ্চে এনে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়ার ফলে ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট’ থেকে ভবিষ্যতের ভালো খেলোয়াড় উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একটি নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মাঠে ভিন্ন এলাকার ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়দের একসঙ্গে অংশগ্রহণ পারস্পরিক পরিচয় ও বন্ধুত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। ফলে খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থারও একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের মতো বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর বসবাসপূর্ণ এলাকায় ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের পরিবেশ তৈরি হওয়াই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম ইতিবাচক দিক।

আয়োজকদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদন ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। মাদক ও অপরাধের মতো সামাজিক সমস্যার ঝুঁকি থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

এ কারণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এমন আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও উন্নত করার সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতার সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং টুর্নামেন্টের সফলতা কামনা করেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট’ প্রতিবছর আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা গেলে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান ফুটবলারদেরও প্রতিযোগিতার মূলধারায় নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিকতা গড়ে উঠবে।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালকে ঘিরে ইতোমধ্যে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, তরুণদের হাতে বল তুলে দিয়ে তাদের মাঠমুখী করার এমন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে খাগড়াছড়ির ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সম্প্রীতিপূর্ণ যুবসমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।