নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাবিকের কারাদণ্ড

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাবিকের কারাদণ্ড

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাবিকের কারাদণ্ড
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিযোগে ভারতীয় নাবিক অজয় পান্তকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী। সম্প্রতি ওই অভিযোগে ‘এমটি স্মিরতোস’ (MT Smyrtos) নামের একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের অভিযানে একজন জাহাজ অধিনায়ককে ফৌজদারি মামলায় সরাসরি কারাদণ্ড দেওয়ার এই ঘটনাকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও বৈশ্বিক নাবিক সংগঠনগুলো।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারতের উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা অজয় পান্ত দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মার্চেন্ট নেভিতে কাজ করছেন। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল উড়িষ্যার পারাদীপ বন্দর থেকে ‘এমটি স্মিরতোস’ জাহাজের দায়িত্ব নিয়ে রওনা হন তিনি।

১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নির্দেশে রয়্যাল মেরিন কমান্ডোস, একাধিক যুদ্ধাভিযানকারী হেলিকপ্টার ও ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে সামরিক অভিযান চালিয়ে বিশাল ওই ট্যাঙ্কারটির নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাজ্য। জাহাজটিতে করে রাশিয়া থেকে ভারতে জ্বালানি তেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্যাপ্টেন অজয় পান্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় ও আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে ১০ বছর পর্যন্ত সম্ভাব্য কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে কারাগারে পাঠায়। যদিও এর আগে ফিনল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো একই ধরনের অভিযোগ ওঠা জাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করলেও নাবিক বা অধিনায়কদের জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছিল।

ঘটনাটিকে বৈশ্বিক নাবিক সমাজের অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্বব্যাপী নাবিকদের অধিকার রক্ষা সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাট সি’-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত আইনজীবী ডেভিড হ্যামন্ড এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (আইটিএফ) প্রতিনিধি টনি প্যাটেন।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলসীমায় জাহাজের ক্যাপ্টেনের নিজস্ব এখতিয়ার, জ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা জাতীয় নিষেধাজ্ঞার অপরাধে একজন সাধারণ পেশাদার নাবিককে বলির পাঁঠা বা অপরাধী বানানো পুরোপুরি অন্যায় এবং বেআইনি।

বিশ্বজুড়ে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও কৃষ্ণসাগরে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে চলতি বছরেই অন্তত ৬৬ জন নাবিক নিহত হওয়ার মধ্যে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ সাধারণ নাবিক পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অজয় পান্তের স্ত্রী ঋতু পান্ত বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন ও তার স্বামীর দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের মৌলিক নিরাপত্তার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাবি জানাচ্ছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *