লংগদুতে পাহাড়ি-বাঙালি জমি বিরোধ, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সমাধান

লংগদুতে পাহাড়ি-বাঙালি জমি বিরোধ, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সমাধান

লংগদুতে পাহাড়ি-বাঙালি জমি বিরোধ, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সমাধান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জমির মালিকানা নিয়ে বাঙালি ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসা হয়েছে। সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের আওতাধীন বামে লংগদু সাবজোনের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসা সভার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে বাঙালি সম্প্রদায়ের মো. সাত্তার মিয়া, পিতা মো. জসীমউদ্দীন এবং মো. জয়নাল মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের রেলি কুমার চাকমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে বামে লংগদু সাবজোনের একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিস্থিতি যাতে আর উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান থাকায় সেখানে বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বামে লংগদু সাবজোনের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জমির মালিকানা দাবি করা উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উভয় পক্ষের জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনার জন্য সংগ্রহ করা হয়। আলোচনায় জমির মালিকানা নিয়ে চলমান বিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে রেলি কুমার চাকমা ওই জমির মালিকানা পাওয়ার দাবিতে মামলা করেন এবং ২০২৫ সালে মামলার রায় পান। সভায় মামলার রায় ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনার পর বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিরোধের অবসান ঘটে।

অন্যদিকে, বাঙালি পক্ষের জমি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে তাদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন সাবজোনের প্রতিনিধিরা। জমির মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মীমাংসা সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে তা সহায়ক হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *