প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আলীকদমের গহিন পাহাড়ে নতুন ভবনে ফিরল স্কুলের ঘণ্টা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আলীকদমের গহিন পাহাড়ে নতুন ভবনে ফিরল স্কুলের ঘণ্টা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আলীকদমের গহিন পাহাড়ে নতুন ভবনে ফিরল স্কুলের ঘণ্টা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়েছিল বিদ্যালয় ভবন ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল। এতে বন্ধ হয়ে যায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার চার গ্রামের ৫০ থেকে ৬০ জন শিশুর পড়াশোনা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের বুঝিখাল ম্রো প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হোস্টেল। নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আবারও বিদ্যালয়টিতে ফিরেছে শিক্ষার পরিবেশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নবনির্মিত বিদ্যালয় ও হোস্টেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা বাংলাদেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বড় হতে চাই এবং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। পাহাড় কিংবা সমতল—প্রতিটি জায়গাই আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই পাহাড়েও শিক্ষার আলো পৌঁছে যাক। এখানকার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করুক।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে স্বপ্ন দেখছেন, তা বাস্তবায়ন করতেই আমরা সারা দেশে ছুটে বেড়াচ্ছি। আপনারা কেউ আলাদা নন, সবাই একই দেশের মানুষ। এখানে মারমা, চাকমা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, গারো, খুমি ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। সবার রক্ত লাল, আমরা সবাই বাংলাদেশি।”

বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আলীকদমের গহিন পাহাড়ে অতিবৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ার বিষয়টি জানার পর দ্রুত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। তাঁর নির্দেশনায় অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আলীকদমের গহিন পাহাড়ে নতুন ভবনে ফিরল স্কুলের ঘণ্টা

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১২ থেকে ১৪ জুলাইয়ের অতিবৃষ্টিতে বিদ্যালয় ভবন ও হোস্টেল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। নতুন ভবনে বিদ্যালয় ও হোস্টেলের জন্য পৃথকভাবে তিনটি করে কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, নতুন করে বিদ্যালয় নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ ফিরে এসেছে। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

স্থানীয় পাড়া কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, চার গ্রামের শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা এই বিদ্যালয়। এটি পুনর্নির্মাণ হওয়ায় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম, আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভূট্টো, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. এ কে এম নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুছাফা ভূঁইয়া বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার পথ আরও সুগম হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *