জনগণের চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন: সাজেক অবরোধে কৃষিপণ্য ও শিক্ষার্থীদের যানবাহনে ছাড় ইউপিডিএফের
![]()
কৃষিপণ্য বাগানেই পচে নষ্ট , ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৮০-৯০ কৃষি উদ্যোক্তা ও খামারি
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফের চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বহাল রেখেই কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলে ছাড় দিয়েছে সংগঠনটির মদদপুষ্ট সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্বে ঘোষিত আওতামুক্ত যানবাহনের পাশাপাশি এখন থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহনও অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। সাজেক এলাকার পাহাড়ি ও বাঙ্গালি নির্বিশেষে কৃষক ও কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই সংগঠনের যৌথ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সাজেকবাসীর উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
কৃষিপণ্য নষ্ট, ক্ষতির মুখে উদ্যোক্তারা
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকের কৃষক, কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী ও খামারিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অবরোধের কারণে উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে না পারায় অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন পাহাড়ি কৃষি উদ্যোক্তা ও খামারির কলা, পেঁপেসহ বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য বাগানেই পচে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশী বলে সূত্রটির দাবি।
স্থানীয় হেডম্যান-কার্বারি ও সাধারণ পাহাড়ি বাসিন্দাদের একটি অংশ অবরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির মতে, জনসমর্থন হারানোর আশঙ্কা এবং স্থানীয় মানুষের চাপের মুখে কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দাবিতে প্রথম দফায় ১১ অক্টোবর, দ্বিতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর এবং তৃতীয় দফায় ২২ অক্টোবর অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। গত ২২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিন সাজেক সড়কে অবরোধ চলে। পরে এক দিন বিরতি দিয়ে ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় আবারও অবরোধ শুরু হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।