এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নিয়োগ, মিয়ানমারে ইন্টারনেট ও টিভি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে একজন জেনারেলকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ১লা ফেব্রুয়ারি সোমবার দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে আটকের পর এই ঘোষণা দেওয়া হলো। এএফপির খবরে জানা যায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিচালিত মায়াওয়াদ্দি টিভিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়েছে, মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
এদিকে, বিবিসির বার্মিস সার্ভিস জানিয়েছে, রাজধানী নাইপিডোতে স্থগিত করা হয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশন। টেলিফোন, ইন্টারনেট ও টিভি চ্যানেল সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়েছে দেশটিতে। শুধুমাত্র সেনাবাহিনী পরিচালিত মায়াবতি চ্যানেলের সম্প্রচার চালু আছে। আর নির্দিষ্ট এলাকা বাদে বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোন পরিষেবাও। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া পোস্টে মিয়ানমার রেডিও এবং টেলিভিশন জানিয়েছে, ‘চলমান যান্ত্রিক ত্রুটির আমরা জানাতে চাই, এমআরটিভি এবং মিয়ানমার রেডিওর সম্প্রচার সম্ভব হচ্ছে না।’
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ইয়াঙ্গুনের সিটি হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সু চিকে আটকের পর অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, সিটি হল চত্বরে সেনাবাহিনীর পাঁচটি ট্রাক রয়েছে। যারা কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাদের সেনাসদস্যরা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করবে এমন গুঞ্জন চলছিল। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মিয়ানমারের ক্ষমতায় ছিল দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি জয় পায়। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী।