মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায় বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার (১লা ফেব্রুয়িারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশ মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ দৃঢ়তার সঙ্গে গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করে। আমরা আশা করি, মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে আমরা মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চাই। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবিচল থেকেছি। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করে চলেছি। আশা করি, এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া, মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন। অভ্যুত্থানে আটক অং সান সু চি-সহ মিয়ানমারের বেসামরিক রাজনীতিবিদদের ছেড়ে দেওয়া না হলে ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ তথ্য জানায়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অং সান সু চিকে গ্রেফতারের ঘটনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী একে ‘বেসামরিক নাগরিকদের বেআইনি অবরোধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সোমবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান এবং অং সান সু চিসহ বেসামরিক নাগরিকদের অবরোধের নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জনগণের ভোটকে স্বীকৃতি দিয়ে বেসামরিক নেতাদের মুক্তি দেয়া উচিত।’
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান চার্লস মিশেলও মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি গ্রেফতার নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘নির্বাচনের ফলকে স্বীকৃতি দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করা উচিত।’
অন্যদিকে, মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের নতুন সংসদ অধিবেশনের ঠিক আগ মুহূর্তে মিয়ানমারের বেসামরিক নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি তিনি দেশটির আইনগত, নির্বাহী ও বিচারিক ক্ষমতা সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল করার ঘটনা দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যে তলানি চলে যাচ্ছে তার প্রতিনিধিত্ব করছে। এছাড়াও, এইচআরডাব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস অং সান সু চি এবং দেশটিতে গ্রেফতার হওয়া বেসামরিক নেতাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, দেশটিতে গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন সরকারকে আজ সোমবার এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে ক্ষমতা দখলে নেয় সেনাবাহিনী। তাদের তরফে বলা হয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইং দেশ পরিচালনা করবেন।