জরুরি অবস্থা শেষ হলে ফের নির্বাচন, রাস্তায় আনন্দ মিছিল সেনা সমর্থিত জনগনের
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতাসীন সরকারকে হটিয়ে আগামী এক বছরের জন্য দেশটির ক্ষমতা নিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এবার সেনাবাহিনী তরফে বলা হয়েছে, জরুরি অবস্থা শেষ হলে দেশটিতে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেনাবাহিনী বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সেনা অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা পর এই তথ্য জানানো হল।
সামরিক বাহিনীর ফেসবুক পেইজে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা প্রকৃত বহু-দলীয় গণতন্ত্র চর্চা করবো… যেখানে পূর্ণ ভারসাম্য এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর এবং জরুরি অবস্থা শেষ হয়ে যাওয়ার পর’ ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার অং সান সুচি জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সামরিক অভ্যুত্থান মেনে না নিয়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সু চির বরাত দিয়ে তার মুখপাত্র মাইও নিন্ত এক বিবৃতিতে জানান, ‘সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপ দেশকে আবারো স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেবে।’
এনএলডি নেতা অং সান সু চির নাম উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘আমি জনগণকে এই সামরিক অভ্যুত্থান মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং আন্তরিকভাবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে সু চির মুখপাত্রকে উদ্ধৃতি করে খবর প্রকাশ করেছে।
তবে, অং সান সূ চি গ্রেফতারে আনন্দ মিছিল বের করেছেন সেনা সমর্থিত বাসিন্দরা। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারের ইয়াঙ্গনে সেনা অভ্যুত্থানের সমর্থনে উল্লাস করেছে স্ব-ঘোষিত কিছু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা। তারা সুয়েডাগন প্যাগোডার বাইরে শহীদদের সমাধিস্থলের কাছে গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। উল্লাসকারীদের একজনের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানায়, উল্লাস উদযাপনের অংশ হিসেবে তারা শহরের অন্য স্থানগুলোতেও যাবে। গত তিনদিন ধরে জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ইয়াঙ্গনের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। সূ চি-কে আটকের ঘটনায় শুধু ইয়াঙ্গুনে নয় অন্যান্য জায়গা থেকেও মিছিলের খবর আসছে। ছোট ছোট ট্রাকে করে রাজপথে আনন্দ মিছিল করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান তারা।
উল্লেখ্য, একই দিন ভোরে দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করে সেনাবাহিনী। বছরের ৮ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বড় জয় পায়। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৩২২টি আসন, যদিও এনএলডি ৩৪৬টি পায়। এদিন নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিজেদের পক্ষে নিল।