খাগড়াছড়িতে জমি বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত বিমল ত্রিপুরার মৃত্যু, উত্তেজনা ছড়াতে অপপ্রচারের অভিযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে বাঙ্গালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বিমল ত্রিপুরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালপাড় এলাকার উক্ত জমিটি ১৯৮২ সাল থেকে বাঙ্গালি আবুল বাশির ভোগদখলে রেখে আম বাগান ও সবজি চাষ করে আসছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি তার শাশুড়ি নুর বানুর নামে জমির কাগজপত্র প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জমি পরিষ্কার করে নতুন করে আমের চারা রোপণ করলে বিপক্ষ পক্ষের থৈলাঅং চৌধুরী খাগড়াছড়ি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও থৈলাঅং চৌধুরী পক্ষ জমিটি দখলের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিরোধপূর্ণ আম বাগানে আগুন দেওয়া ও তর্কাতর্কির জেরে সংঘর্ষে ৩ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য ও ১ জন বাঙ্গালি আহত হন। আহতদের খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বাঙ্গালি পক্ষ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অপরদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ ৮ জন বাঙ্গালির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পুলিশ দুই বাঙ্গালিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে রয়েছেন। আরও এক আসামি চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন এবং বাকি কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে বিমল ত্রিপুরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এসব অপপ্রচারের উদ্দেশ্য পাহাড়ি অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা।
উল্লেখ্য, সংঘর্ষের আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের ভুয়াছড়ি আর্মি ক্যাম্প, খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ ও কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ১৫ জানুয়ারি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। সেখানে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জমিতে কেউ চাষাবাদ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করেই পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।