নির্বাচন ও গণভোটে নাইক্ষ্যংছড়ি–পেকুয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রস্তুত ১১ বিজিবি
![]()
নিউজ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সকল ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়। ভোটাররা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
লে. কর্নেল কফিল উদ্দিন কায়েস জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারাদেশে বিজিবির ৩৭ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় এবং সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। পাশাপাশি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই ঝুঁকি বিবেচনায় মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে বাহিনীটি দায়িত্বে রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ কোনো অপরাধ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে না পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ড্রোন, নাইট ভিশন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজার ও বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং ভোটকেন্দ্র রেকি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৬টি ভোটকেন্দ্রে ৫ প্লাটুন এবং কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার ৪৭টি ভোটকেন্দ্রে আরও ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে জানানো হয়। পেকুয়ার দুর্গম এলাকায় স্থাপিত বেইজ ক্যাম্পের মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাহিনীটি প্রস্তুত রয়েছে।
লে. কর্নেল কফিল উদ্দিন কায়েস দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ও পেকুয়ার দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিজিবি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।