আলীকদমে ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন ও ব্যাপক জনসেবামূলক কর্মসূচি সেনাবাহিনীর
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের অন্তর্গত আলীকদম জোনের উদ্যোগে মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম পাহাড় ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি উদ্বোধন করেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক।

বিদ্যালয় উদ্বোধনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের জন্য ব্যাপক জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে ৩১৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এতে ৯৫ জন পুরুষ, ১৭৫ জন মহিলা এবং ৪৫ জন শিশু বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ গ্রহন করে।

এছাড়া নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, বেঞ্চ, পাঠ্যবই ও স্টেশনারি বিতরণ করা হয়।
এছাড়া শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় ১১৩টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র এবং আর্থিক সংকট নিরসনে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন প্রধান অতিথি।

আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং মায়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত পাহাড়ভাঙ্গা পাড়া দীর্ঘদিন সুবিধাবঞ্চিত ছিল।
ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে এই অঞ্চলের ফাতরাপাড়া, মাসখুম পাড়া ও তরণী পাড়ার শিশুরা দীর্ঘকাল ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।

এই অঞ্চলের শিশুদের ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার সমস্যাটি নিয়ে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আলীকদম জোন এই এলাকায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্গম এই অঞ্চলে শিক্ষার যাত্রা শুরু হওয়ায় শিশুদের উন্নত জীবনের পথ প্রশস্ত হবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম, মেজর মোঃ পাভেল মাহমুদ রাসেল, বিএসপি, জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী তাওহীদ, লামা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মাসুম সরদার, ক্রকপাতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় কার্বারি, জনপ্রতিনিধি এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।

সেনাবাহিনীর এই অনন্য সাধারণ ও মানবিক উদ্যোগের জন্য স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনপদে সম্প্রীতি ও শিক্ষার প্রসারে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।