কুড়িগ্রামে ‘রোবট সদৃশ’ বস্তু, বিজিবির দাবি- লাইট লাগানো সাইকেলের এডিট করা ভিডিও

কুড়িগ্রামে ‘রোবট সদৃশ’ বস্তু, বিজিবির দাবি- লাইট লাগানো সাইকেলের এডিট করা ভিডিও

কুড়িগ্রামে ‘রোবট সদৃশ’ বস্তু, বিজিবির দাবি- লাইট লাগানো সাইকেলের এডিট করা ভিডিও
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে কুকুর আকৃতির রোবটের মতো একটি বস্তু হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে—এমন দাবি করেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনী বাজার এলাকার ‘আলাদিন ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড হার্ডওয়্যার’ নামের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধরা পড়ে বলে দাবি করা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

দোকানটির মালিক রোকনুজ্জামান বলেন, “মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে একটি অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। কুকুর আকৃতির কিছু একটা হেঁটে যাচ্ছে। প্রথমে পরিচিতদের দেখাই, তারা কিছু বুঝতে পারেনি। পরে থানায় দেখাই, তারাও নিশ্চিত হতে পারেনি। এরপর ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করি।”

স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, “ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বস্তুটি কী, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।”

একজন অটোরিকশাচালক দাবি করেন, তিনি ওই রাতে আলো জ্বলতে থাকা অদ্ভুত একটি বস্তু দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সার্কেল এএসপি ও বিজিবির অধিনায়ক ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

তবে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানান, ভিডিও ক্লিপ যাচাই করে দেখা গেছে, এটি একটি সোজা হ্যান্ডেলযুক্ত বাইসাইকেল। বাইসাইকেলের দুটি চাকায় ছোট লাইট এবং সামনে একটি হেডলাইট ছিল। চালক সামনের দিকে ঝুঁকে দ্রুতগতিতে চলছিলেন। ক্যামেরার রেজ্যুলেশন কম হওয়ায় বিষয়টি অস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিসি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, সংরক্ষিত সব ভিডিওতে ১৪ নভেম্বর তারিখ প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া প্রচারিত ভিডিও ক্লিপে একই সময়ের একটি ভিডিও তিনবার সংযোজন (এডিট) করা হয়েছে, যা ভিডিওর নিচের বাম কোণে দৃশ্যমান। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে ছড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে মেমোরি কার্ডসহ সিসি ক্যামেরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।