সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের দাবিতে খাগড়াছড়িতে নাগরিক পরিষদের স্মারকলিপি

সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের দাবিতে খাগড়াছড়িতে নাগরিক পরিষদের স্মারকলিপি

সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের দাবিতে খাগড়াছড়িতে নাগরিক পরিষদের স্মারকলিপি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠন ও প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে খাগড়াছড়িতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

আজ রোববার (১ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতের কাছে সংগঠনটির পক্ষ হতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে স্মারকলিপিটি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবি সমূহের অন্যতম হলো নির্বাচনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ গঠন, চেয়ারম্যান পদে বাঙালিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি, ২শ ৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, সেনাক্যাম্পে পূর্ণ সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাতিল করা।

সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের দাবিতে খাগড়াছড়িতে নাগরিক পরিষদের স্মারকলিপি

এতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ বিশেষ শাসন ব্যবস্থায় অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে পরিষদগুলোতে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সুষম উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কারণে সাধারণ জনগণ দিন দিন আতঙ্কে বসবাস করছে। আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনরায় স্থাপন এবং পার্বত্য অঞ্চলের ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানানো হয় এতে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফসার হোসেন রনি, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি জালাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলার সাবেক সভাপতি সোহেল রানা জেলা শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, পিসিসিপি খাগড়াছড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা সভাপতি তরিকুল ইসলাম রায়হান, পিসিসিপি কলেজ কমিটির সভাপতি মাকসুদুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম জোনায়েদ, জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে সংস্কার ও নির্বাচনের দাবি উঠলেও এখনো সে বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।