সংকট নিরসনে চীনে বৈঠকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদল

সংকট নিরসনে চীনে বৈঠকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদল

সংকট নিরসনে চীনে বৈঠকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসেছে। বর্তমানে দুই দেশের কর্মকর্তারা চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনচিয়াংয়ের রাজধানী উরুমচিতে অবস্থান করছেন।

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “পাকিস্তান ও আফগানিস্তান চীনের মধ্যস্থতা উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদল আবার আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি।” তিনি আরও বলেন, সংঘাত বৃদ্ধির পর থেকে চীন উভয় পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছে এবং আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। আলোচনা প্রক্রিয়া স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে আফগানিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদরাবি বৃহস্পতিবার জানান, শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদ থেকে একটি প্রতিনিধিদল উরুমচিতে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চায়।

আলোচনায় আমাদের মৌলিক উদ্বেগ তুলে ধরা হবে। শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান দায়িত্ব আফগানিস্তানের ওপর বর্তায়। তাদের ভূমি থেকে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে।”

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহহার বলখি বলেন, চীনের অনুরোধে একটি মধ্যম স্তরের প্রতিনিধিদল উরুমচিতে গেছে। তিনি জানান, “ইসলামি আমিরাত (আফগানিস্তান) ভারসাম্য ও নৈতিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

আমাদের লক্ষ্য প্রতিবেশীসুলভ উত্তম আচরণ। আমরা প্রত্যাশা করি, অপর পক্ষও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল আলোচনায় অংশ নেবে, যাতে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কার্যকর হয়।”

চীনের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছর অক্টোবরেও দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, যা পরে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে থামানো হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।