রোয়াংছড়িতে বসছে তঞ্চঙ্গ্যা জাতির প্রাণের উৎসব: ১২ এপ্রিল বিষু মেলা ও ঘিলা খেলা
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলাতে আগামী ১২ এপ্রিল (২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) বসতে যাচ্ছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন—কেন্দ্রীয় বিষু মেলা ও তঞ্চঙ্গ্যা জাতীয় ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট।
দিনব্যাপী এ বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আলেখ্যং ইউনিয়নের বেক্ষ্যং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে।
বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা (বাতকস)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসব ঘিরে ইতোমধ্যে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সামাজিক মিলনমেলায় যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। সভাপতিত্ব করবেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাতকসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজীব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গত ২২ মার্চ রোয়াংছড়ির বটতলী সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারে এক জরুরি সভায় বিষু উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। এতে উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যাকে আহ্বায়ক, অমিত ভূষণ তঞ্চঙ্গ্যাকে সদস্য সচিব এবং প্রদীপ তঞ্চঙ্গ্যাকে অর্থ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আয়োজনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

আয়োজকরা জানান, রোয়াংছড়ি ছাড়াও কক্সবাজার, আলীকদম, কাপ্তাই, রাজস্থলী, রাঙামাটি সদর, বান্দরবান, রুমা-রাজবিলা, নাইক্ষ্যংছড়ি, দেবতাছড়ি-রস্যাবিলি, বিলাইছড়ি ও ফারুয়াসহ ১২টি আঞ্চলিক কমিটি এ আয়োজনে অংশ নেবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সদস্যরাও এতে যোগ দেবেন, যা এটিকে এক বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত করবে।
অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী বিকাল ৫টায় অতিথি আগমন, ৫টা ১৫ মিনিটে ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, ৫টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। রাত সাড়ে ৭টায় অতিথি আপ্যায়নের পর শুরু হবে রাতব্যাপী ঘিলা খেলার প্রতিযোগিতা, যেখানে ১২টি অঞ্চলের প্রতিযোগীরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলবে রাতব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরদিন সকালে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, ঘিলা খেলায় অংশ নিতে আগ্রহীদের আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে নামের তালিকা জমা দিতে হবে।
তঞ্চঙ্গ্যা সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে একত্রে তুলে ধরার এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়—বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।