শান্তি ও সম্প্রীতি কর্মসূচির আওতায় বাঘাইছড়িতে বিজিবির শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি আবারও প্রশংসনীয় মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অসহায় পরিবারের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)।
রবিবার (২৪ মে) মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে দায়িত্বপূর্ণ কমলাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছিল ৫ বান টিন, ২০ সেট স্কুল ড্রেস এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্ল্যাকবোর্ড।

স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিজিবির এই উদ্যোগকে এলাকাবাসী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে যেখানে অনেক সময়ই সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হয়, সেখানে বিজিবির এমন সরাসরি সহায়তা স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
একই সঙ্গে কমলাপাড়া এলাকার কয়েকজন অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে পৃথকভাবে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে কালা চাকমাকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়, যা তার স্বাবলম্বী হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। জনি চাকমাকে দেওয়া হয় নগদ অর্থ সহায়তা, যা তার পারিবারিক আর্থিক সংকট কিছুটা লাঘব করবে। এছাড়া নিরু কান্তি চাকমাকে চিকিৎসা সহায়তার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

এছাড়াও শিশু ও কিশোরদের সামাজিক ও বিনোদনমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে একটি ক্যারাম বোর্ড বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয় যুবসমাজের মধ্যে ইতিবাচক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
একই দিনে মারিশ্যা জোনের আওতাধীন ওল্ডলংকর বিওপির উদ্যোগেও পৃথক শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেখানে ওল্ডলংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০ সেট স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

ওল্ডলংকর এলাকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে লাল হুয়া পুইই পাংখোয়াকে একটি সেলাই মেশিন এবং লাল আম পুইই পাংখোয়াকে ঘর মেরামতের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট নিরসনে একটি ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

এছাড়া স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সামিয়ানা বাবদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহিত করবে।
মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) অধিনায়ক কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নিয়মিতভাবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তাঁর ভাষায়, “সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমরা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছি। শান্তি ও সম্প্রীতির এই ধারাকে আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবো।”
অনুষ্ঠানে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, ওল্ডলংকর বিওপি ও কমলাপাড়া টিওবি কমান্ডারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিজিবির এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, বাঘাইছড়ির এই শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে স্থানীয়রা পার্বত্য অঞ্চলে বিজিবির চলমান উন্নয়ন ও সম্প্রীতি কর্মসূচির একটি সফল ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।