দুর্গম পাহাড়ে ভিডিপি দলনেতার মানবিক নৌকা: বিলাইছড়িতে বদলে গেল হাজারো মানুষের যাতায়াতের গল্প
![]()
নিউজ ডেস্ক
পাহাড়, নদী আর লেকবেষ্টিত রাঙামাটির দুর্গম জনপদে নিত্যদিনের কষ্ট ও ভোগান্তির চিত্রে এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) একজন মানবিক সদস্যের উদ্যোগ। রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন একটি লেক এলাকায় দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নৌকা তৈরি করে সাধারণ মানুষের সেবায় উন্মুক্ত করে দিয়েছেন ভিডিপি দলনেতা মোঃ মনিরুল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে লেকের পানির স্তর কমে যাওয়ায় এই পথে বড় লঞ্চ বা ট্রলার চলাচল করতে পারে না। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে কাদামাটি মাড়িয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে পারাপার হতে হতো। বিশেষ করে কৌশল্যা ঘোনা হাজার মানিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কৌশল্যা ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীর জন্য এই পথ ছিল প্রতিদিনের এক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতা।
এই বাস্তবতা পরিবর্তনে এগিয়ে আসেন ভিডিপি দলনেতা মোঃ মনিরুল হোসেন। তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৪২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের নৌকা নির্মাণ করে তা স্থানীয় জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির রাঙামাটি জেলা কমান্ড্যান্ট উপ-পরিচালক মোঃ সাদ্দাম হোসেনের দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নতুন এই নৌকা চালুর ফলে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী এবং রাঙামাটি থেকে বিলাইছড়ি নৌপথে চলাচলকারী প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ যাত্রী সহজে ও নিরাপদে পারাপার করতে পারছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এতে দীর্ঘদিনের কাদামাটি পেরিয়ে কষ্টকর যাতায়াত এখন অনেকটাই স্বস্তি ও নিরাপত্তার যাত্রায় রূপ নিয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৩ মে ২০২৬) রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের হাজাছড়ি আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নৌকাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক মোঃ মোবারক হোসেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্লাটুন লিডার, আনসার-ভিডিপি সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই উদ্যোগ শুধু একটি নৌকা প্রদান নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের জীবনযাত্রায় একটি বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত সহজ হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসেবামূলক এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দুর্গম অঞ্চলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বাহিনীর অন্যতম অঙ্গীকার।
স্থানীয়দের মতে, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর মধ্যেও ব্যক্তিগত মানবিক প্রচেষ্টা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে বিলাইছড়ির এই উদ্যোগ এখন দুর্গম পাহাড়ি জনপদের জন্য একটি অনুকরণীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।