সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল; আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ

সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল; আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ

সাংগু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল; আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে জেলা সদরসহ লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। অব্যাহত বর্ষণের ফলে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

সাংগু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল; আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় সাংগু নদীর পানি ১৪ দশমিক ৮৮৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপৎসীমার ওপরে। একইভাবে মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা সদর এলাকার আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, মেম্বারপাড়া, উজানীপাড়াসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে ঘরবাড়ি, সড়ক ও উঠান তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।

সাংগু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল; আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ

বান্দরবান সরকারি শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “অবিরাম বৃষ্টিতে সাংগু নদীর পানি বেড়ে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বাধ্য হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে কষ্টে দিন কাটছে।”

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা জরিনা বেগম বলেন, “বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার বন্যার পানিতে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।”

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

সাংগু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল; আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অনুরোধ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *