৭৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, আধুনিক ভবন পাচ্ছে নানিয়ারচরের মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৭৪ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয় অবশেষে আধুনিক একাডেমিক ভবন পেতে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণাধীন চারতলা একাডেমিক ভবনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। বহু প্রতীক্ষিত এই ভবন চালু হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের রামহরিপাড়ায় অবস্থিত মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক চিত্ত কিশোর লার্মার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি জেলার প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।
তবে সময়ের ব্যবধানে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন নানা ভোগান্তির মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় চত্বরে পানি জমে ক্লাস পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ত।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপম চাকমা বলেন, “আগে বর্ষাকালে মাঠে পানি জমে যেত। শ্রেণিকক্ষে যেতে অনেক কষ্ট হতো। শৌচাগারও দূরে থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। নতুন ভবন চালু হলে সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারব।”
বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একতলা ভবনের কাজ শেষ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় দুই বছর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

পরে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব পাওয়ার পর দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ভবনের মূল কাঠামোসহ অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে রং, বৈদ্যুতিক সংযোগ, টাইলস বসানোসহ ফিনিশিংয়ের কাজ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিরন খীসা বলেন, “মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজ দ্রুত এগিয়েছে। এখন ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।”
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা খান জানান, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না হলে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চারতলা ভবনের মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, আধুনিক এই একাডেমিক ভবন চালু হলে শুধু অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানই হবে না, বরং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় শিক্ষাবিস্তারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।