পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের মুখে কাপ্তাইয়ের কবরস্থানের সড়ক-কালভার্ট, ঝুঁকিতে উপজেলা মডেল মসজিদ

পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের মুখে কাপ্তাইয়ের কবরস্থানের সড়ক-কালভার্ট, ঝুঁকিতে উপজেলা মডেল মসজিদ

পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের মুখে কাপ্তাইয়ের কবরস্থানের সড়ক-কালভার্ট, ঝুঁকিতে উপজেলা মডেল মসজিদ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা সদরের উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসংলগ্ন কবরস্থানে যাওয়ার সড়ক এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ছড়ার তীব্র স্রোতে প্রায় ৯ মিটার এলাকা ধসে যাওয়ায় কবরস্থানে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ভাঙন ক্রমশ মডেল মসজিদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ছড়ার পানির স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ছড়ার তীরের বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ভাঙনের কিনারা কবরস্থানের প্রবেশপথ ও কালভার্টের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোনো সময় কালভার্টটি ধসে পড়তে পারে, ফলে কবরস্থানে যাতায়াত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পাশাপাশি মডেল মসজিদের ভবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ছড়ার তীর ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণে কার্যকর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। সাম্প্রতিক ভাঙনের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব হাফেজ মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য অসংখ্য মুসল্লি এখানে আসেন। বিশেষ করে জুমার দিনে কয়েকশ মুসল্লির সমাগম হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কবরস্থানে যাওয়ার একমাত্র কালভার্টটি ধসে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মডেল মসজিদটিও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে কবরস্থানে যাওয়ার সড়ক ও কালভার্টে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বরইছড়ি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. একরাম হোসেন বলেন, এই সড়কটি শুধু কবরস্থানে যাওয়ার পথ নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সড়ক ও কালভার্ট রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতের কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সময়মতো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই ধরনের সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে। তারা দ্রুত টেকসই তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *