বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২৬ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একযোগে ২৬ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে দীঘিনালা জোন এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন সাবজোনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচির আওতায় দীঘিনালা জোন থেকে ৭ হাজার এবং বিভিন্ন সাবজোন থেকে আরও ১৯ হাজারসহ মোট ২৬ হাজার গাছের চারা সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে বন উজাড় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিতরণ করা চারার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে, যা একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত চাহিদা পূরণেও সহায়ক হবে।

জোন অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে জোনের উপ-অধিনায়ক, অ্যাডজুট্যান্ট এবং অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা চারাগ্রহীতাদের প্রতিটি চারা সঠিকভাবে রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান, যাতে কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দেশের নিরাপত্তা, অখন্ডতা রক্ষার পাশাপাশ পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন। তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।