নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্বে জাতীয় মঞ্চে লংগদুর দুই কৃতি শিক্ষার্থী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দুই মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের এই সাফল্যে উপজেলাজুড়ে আনন্দ, গর্ব ও উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা এটিকে লংগদুর ক্রীড়া ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাঁতার ইভেন্টে অংশ নেবেন লংগদুর বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মতিউর রহমান পারভেজ। অন্যদিকে রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর সাব্বির একসঙ্গে সাঁতার ও কাবাডি—এই দুটি ইভেন্টে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। একই প্রতিযোগিতায় দুটি ইভেন্টে বিভাগীয় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাওয়ায় মীর সাব্বিরকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও দুই শিক্ষার্থীর জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া প্রমাণ করে যে, যথাযথ পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ পেলে এখানকার তরুণরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে সক্ষম।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো লংগদুর জন্য একটি অনুপ্রেরণার বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ালে এ অঞ্চল থেকে আরও অনেক জাতীয়মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে।
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাওয়া লংগদুর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দুই শিক্ষার্থীর এই অর্জন আমাদের জন্য সম্মানের। আমি বিশ্বাস করি, তারা জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের সেরাটা উপহার দিয়ে লংগদু, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম বিভাগের মুখ উজ্জ্বল করবে।
ক্রীড়াবিদ ও সচেতন মহলের মতে, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের এই সুযোগ দুই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্রীড়া জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তাদের সাফল্য লংগদুর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে এবং পার্বত্য অঞ্চলে ক্রীড়া বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও লংগদুর দুই শিক্ষার্থীর জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণরাও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।