রাঙামাটিতে সাতদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে সাতদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা এবং বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, চাকমা সার্কেলের চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস. এম. সাজ্জাদ হোসেন।

আলোচনা সভায় রাঙামাটি সদর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত বলেন, পাহাড়ের গভীরে অবৈধ কাঠ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করছেন। প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সার্কেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ বনভূমি রয়েছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বনভূমির পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে এবং সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের কিছু ঘাটতি রয়েছে। এ সমন্বয় জোরদার করে বনায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগের বন উজাড় (ডি-ফরেস্টেশন) হওয়া এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে (রিজার্ভ ফরেস্ট) পুনর্বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সাধারণ মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা তুলে দেন। পরে তারা বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।